Rasel Afridi

৩০ মিনিটে বিয়ে, দাম্পত্য জীবনের ৪২ বছর পার করে অনিলের উপলব্ধি

শোবিজ অঙ্গনে হরহামেশা সংসার ভাঙার খবর শোনা যায়। এর মধ্যে ব্যতিক্রমও আছে। তেমনই এক দাম্পতি হলেন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা অনিল কাপুর ও সুনীতা কাপুর। এক ছাদের নিচে দম্পত্য জীনের ৪২ বছর কাটিয়ে দিয়েছেন তারা। মঙ্গলবার বিবাহবার্ষিকীর দিন ইনস্টাগ্রামে স্ত্রী সুনীতার সঙ্গে বেশ কিছু ছবি শেয়ার করেছেন অনিল।

শেয়ার করা ছবিগুলোর মধ্যে একটি তাদের বিয়ের সময়ের ও বাকিগুলো গত কয়েক দশকে একসঙ্গে কাটানো নানা মুহূর্তের। ছবিগুলোর পাশাপাশি সুনীতার প্রতি ভালবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আবেগঘন কথাও লিখেছেন অভিনেতা।

বিয়ে স্মৃতিচারণ করে অনিল কাপুর লিখেছেন, ‘৪২ বছরের বিয়ে। ৫৩ বছরের পথচলা। আর কোনও একভাবে, প্রতিটা বছরই আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিপূর্ণ মনে হয়। কোনও হানিমুন বা জাঁকজমক ছাড়া মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে হওয়া অত্যন্ত সাধারণ একটি বিয়ে ছিল আমাদের।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘শুধু আমাদের বাবা-মা, কয়েকজন ঘনিষ্ঠ মানুষ এবং আমরা দু’জন ছিলাম। আমি কখনও ভাবিনি যে সেই ৩০ মিনিট দেখতে দেখতে ৫৩ বছরে রূপ নেবে। লোকে বলে, বিয়ে স্বর্গে পরিণত হয় হয়—আমাদেরটা নিশ্চিতভাবে তাই ছিল।’

অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও ভারতের সঙ্গে বেশি টেস্ট খেলতে চাই: শান্ত

অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও ভারতের মতো ক্রিকেট পরাশক্তিদের বিপক্ষে আরও বেশি টেস্ট খেলার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই করার পর ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এই আকুতি জানান টাইগার দলনেতা।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যাক-টু-ব্যাক দুটি টেস্ট খেলে দুটিতেই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ দল। দলের এই ধারাবাহিকতায় গর্বিত শান্ত। তবে দল হিসেবে আরও পরিপক্ব হতে ক্রিকেটের ‘বিগ থ্রি’র বিপক্ষে খেলার বিকল্প দেখছেন না তিনি।
শান্ত বলেন, ‘আমরা এখন অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত এই দলগুলোর সাথেও বেশি বেশি টেস্ট খেলতে চাই। হোক সেটা হোম বা অ্যাওয়ে। কারণ, আমরা যখন আরও বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাব এবং নতুন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করব, তখনই আমাদের দলটা আস্তে আস্তে সত্যিকারের শক্তিশালী দল হিসেবে গড়ে উঠবে।’
আইসিসির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক আরও বলেন, ‘আশা থাকবে আইসিসি যেন আমাদের বেশি বেশি করে সব দলের সাথে টেস্ট ম্যাচ দেয়। এখন আমরা তুলনামূলক বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছি, এটা অবশ্যই একটা ইতিবাচক দিক। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও ভারতের সাথে যদি আমরা আরও বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাই, তবে সেটা নিশ্চিতভাবেই আমার দলের জন্য আরও বড় কিছু হবে।
বাংলাদেশ যেভাবে স্নায়ুচাপ সামলে জয় তুলে নিয়েছে, তাতে ছেলেদের মানসিকতার উন্নতি দেখছেন শান্ত। তিনি বলেন, ‘আগের টেস্ট ম্যাচগুলোর চেয়ে এখন আমাদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা বা আতঙ্কিত না হওয়ার বিষয়টা একটু ভালো হয়েছে। তবে বড় দলগুলো হয়তো মাঠে আরও বেশি শান্ত থাকে, তাই এই জায়গাটাতে আমাদের আরও একটু উন্নতির দরকার আছে। তবে এই সামগ্রিক উন্নতিতে অধিনায়ক হিসেবে আমি খুশি।’

ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক, সুদহার কমানো নিয়ে দুই মত

মানুষের স্বস্তির জন্য দেশের উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমানোর তাগিদ রয়েছে। একই সাথে বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এরকম অবস্থার মধ্যে আগামী মুদ্রানীতিতে সুদহার কমানো নিয়ে দুই রকম মত দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। কর্মকর্তাদের কেউ কেউ এ হার কমানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। কেউ কেউ বলেছেন, এখনই সুদহার কমনো ঠিক হবে না।
বুধবার গভর্নরের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালক ও পরিচালকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সম্পর্কিত বিভিন্ন পরামর্শ উঠে আসে।
জানা গেছে, বৈঠকে দু’জন কর্মকর্তা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্য অর্জনের জন্য সুদহার কমানোর পরামর্শ দেন। এক্ষেত্রে আশপাশের দেশের উদাহরণ তুলে ধরে তারা বলেন, উচ্চ সুদে ব্যবসা করতে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে হবে। সুদহার না কমলে কাঙ্খিত বিনিয়োগ আসবে না, কর্মসংস্থানও হবে না। তবে এর সাথে অনেকেই ভিন্ন মত পোষণ করেন। তারা ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সুদহারে নয়-ছয়ের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ওই সময়ে মূল্যস্ফীতির তুলনায় সুদহার কম ছিল। এরপরও কাঙ্খিত বিনিয়োগ হয়নি।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর জাকির হোসেন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ঋণ নির্ভর না। জিনিসের দর বাড়লেই ঋণ করে- এমনটি নয়। ফলে সুদহার বাড়া-কমার সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ও বিনিয়োগ খুব একটা নির্ভর করে না। বরং এখানে বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে দর বেড়ে যায়। আবার কৃষি উৎপাদন ভালো হলো মূল্যস্ফীতি কমে।
আরেক ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ বলেন, প্রচলিত অর্থনৈতিক সূত্র অনেক ক্ষেত্রে এখন আর ক্ষেত্রে কাজে আসছে না। ফলে সতর্কতার সাথে সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বৈঠকে ভালো ব্যাংকগুলোর উচ্চ মুনাফা করার বিষয়টি উঠে আসে। এক্ষেত্রে বলা হয়, খারাপ ব্যাংক থেকে আমানত তুলে এখন কয়েকটি ভালো ব্যাংকে চলে যাচ্ছে। এসব ব্যাংক অনেক কম সুদে আমানত পেলেও ঋণ বিতরণে অন্য ব্যাংকের মতো সুদ নিচ্ছে। এসব ব্যাংকের স্প্রেড থাকছে অনেক উচ্চ। যদিও বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
গত ফেব্রুয়ারিতে মো. মোস্তাকুর রহমান গভর্নর হিসেবে যোগদানের পরই নীতি সুদহার কমানোর উদ্যোগ নেন। এজন্য মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠকও ডাকেন তিনি। তবে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের কারণে শেষ পর্যন্ত আর নীতি সুদহার কমানো হয়নি। বেশ আগ থেকে সুদহার কমানোর দাবি উঠলেও অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর গভর্নর থাকা অবস্থায় ঘোষণা দেন- মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে না নামা পর্যন্ত নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হবে। সর্বশেষ গত এপ্রিল মাসের মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি ছয় মাসের আগাম মুদ্রানীতি ঘোষণা করে। মুদ্রানীতি ঘোষণার আগে বিভিন্ন পক্ষের সাথে বৈঠকের অংশ হিসেবে গতকালের বৈঠক করা হয়। চলতি মুদ্রানীতিতে আগামী জুন নাগাদ বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যা ৬ দশমিক শুন্য ৩ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। আর মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশ এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৫ শতাংশ।

মার্কিন-ইরান যুদ্ধ বন্ধের কোনো অগ্রগতি নেই: রয়টার্স

কয়েক দিনের বিক্ষিপ্ত উত্তেজনার পর হরমুজ প্রণালী এলাকা এখন আপেক্ষিকভাবে শান্ত। তবে যুদ্ধ বন্ধে বিশেষ কোনো অগ্রগতি নেই।
দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধ এবং নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রতিক্রিয়ার আশা করছে।
তবে একদিনের বেশি সময় পার হলেও তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ছাড়া অন্যান্য বিতর্কিত বিষয়ে আলোচনার আগে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ বন্ধ করা।
শনিবার মিয়ামিতে কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানির সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কো রুবিও।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে জানান, তারা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং হুমকি মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
তবে বিবৃতিতে সরাসরি ইরানের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ: কাতারি এলএনজি ট্যাঙ্কার
এলএসজি শিপিং ডেটা অনুযায়ী, শনিবার একটি কাতারি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালী হয়ে পাকিস্তানের দিকে যাত্রা করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তানের সঙ্গে আস্থা তৈরির লক্ষ্যে ইরান এই চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর এটিই হবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো কাতারি এলএনজি জাহাজের প্রথম যাতায়াত।
আগামী সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের প্রাক্কালে এই যুদ্ধ বন্ধের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। এই সংঘাত জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুদ্ধবিরতি ও সাম্প্রতিক সংঘর্ষ
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেহরান মূলত হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরানি জাহাজ ছাড়া অন্য সব জাহাজ চলাচল বন্ধ করে রেখেছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেলের পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই জলপথ দিয়ে প্রবাহিত হতো।
ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, শুক্রবার প্রণালীতে ইরানি বাহিনী ও মার্কিন জাহাজের মধ্যে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা দুটি ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যেগুলো একটি ইরানি বন্দরে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। মার্কিন যুদ্ধবিমান জাহাজ দুটির ধোঁয়া নির্গমন পথে (স্মোকস্ট্যাক) আঘাত করলে তারা ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
কূটনৈতিক তৎপরতা ও নিষেধাজ্ঞা
যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাত নিরসনে আন্তর্জাতিক সমর্থন পেতে হিমশিম খাচ্ছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে বৈঠকের পর রুবিও প্রশ্ন তোলেন যে, কেন মিত্ররা জলপথটি পুনরায় সচল করার প্রচেষ্টায় ওয়াশিংটনকে সমর্থন দিচ্ছে না।
অন্যদিকে, জার্মানি ও ব্রিটেন মধ্যস্থতা ও জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করার কথা জানিয়েছে।
এদিকে, কূটনীতির পাশাপাশি ইরানকে চাপে রাখতে নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ১০ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর মধ্যে চীন ও হংকংয়ের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা ইরানকে ‘শাহেদ’ ড্রোন তৈরির কাঁচামাল সরবরাহে সহায়তা করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে বলেন, যতবারই কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ আসে, যুক্তরাষ্ট্র ততোবারই বেপরোয়া সামরিক অভিযান বেছে নেয়।
ইরানের অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে সিআইএ’র মূল্যায়ন
ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, মার্কিন ব্লকেডের কারণে ইরান আগামী চার মাস তেমন কোনো গুরুতর অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে না। তবে একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা এই দাবিকে মিথ্যা বলে অভিহিত করেছেন।

ভারতের নতুন সেনাপ্রধান হচ্ছেন রাজা সুব্রামানি

ভারতের নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল এন এস রাজা সুব্রামানি।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি সামরিকবিষয়ক বিভাগের সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। ৩০ মে সেনা কর্মকর্তা জেনারেল অনিল চৌহানের মেয়াদ হওয়ার পর রাজা সুব্রামানি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুব্রামানি বর্তমানে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সচিবালয়ে (এনএসসিএস) সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি গত বছরের ৩১ জুলাই ভাইস চিফ অফ দ্য আর্মি স্টাফ (ভিসিওএএস) হিসেবে সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
ভারতীয় সেনাবাহিনীতে তার ৩৯ বছরের কর্মজীবনে তিনি সেন্ট্রাল কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ (জিওসি-ইন-সি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মজীবনে তিনি বিশিষ্ট সেবা পদক (পিভিএসএম), অতি বিশিষ্ট সেবা পদক (এভিএসএম), সেনা পদক (এসএম) ও বিশিষ্ট সেবা পদকে (ভিএসএম) ভূষিত হয়েছেন।
১৯৮৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর তিনি গাড়োয়াল রাইফেলসের ৮ ব্যাটালিয়নে কমিশন লাভ করেন।
কেন্দ্রের এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তিনি অপারেশন রাইনোর অংশ হিসেবে আসামে বিদ্রোহ দমনে ১৬ গাড়োয়াল রাইফেলস, জম্মু ও কাশ্মিরে ১৬৮ পদাতিক ব্রিগেড এবং কেন্দ্রীয় সেক্টরে ১৭ মাউন্টেন ডিভিশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন থালাপতি বিজয়।

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন থালাপতি বিজয়। আজ রোববার (১০ মে) সকালে চেন্নাইয়ের জওহর লাল নেহরু স্টেডিয়ামে ৯ মন্ত্রীসহ তিনি শপথ নেন। এরমাধ্যমে তার নেতৃত্বে রাজ্যটিতে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে।
তার শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন ভারতীয় কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী। এছাড়া সেখানে অন্যান্য দলের নেতারাও ছিলেন।
থালাপতি বিজয়কে শপথ পড়ান সেখানকার রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আর্লেকার।
গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে ২৩৪টি আসনের মধ্যে একক দল হিসেবে সর্বোচ্চ ১০৮টি আসনে জয় পায় থালাপতির টিভিকে। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য যেহেতু ১১৮টি আসন পেতে হবে। তাই আরো পাঁচটি দলের সাথে জোট গঠন করতে হয়েছে বিজয়কে। এতে ভারতীয় কংগ্রেসসহ অন্যান্য দল তাকে সমর্থন দিয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যায় রাজ্যপালের সাথে দেখা করেন থালাপতি। ওই সময় তিনি রাজ্যপালকে জানান আরো দুটি দল তাকে সমর্থন দিয়েছে। এতে করে তার দল টিভিকে ও জোটের আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২০। এ সময় সরকার গঠনের অনুমতি চান তিনি।
তবে রাজ্যপাল যাচাই বাছাই করেন থালাপতি সত্য বলছেন কি না। বিশেষ করে ভিসেকে ও ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল) তাকে সমর্থন জানিয়ে যে চিঠি দিয়েছে সেগুলো আসল কি না তা রাজ্যপাল যাচাই করেন।
যাচাই বাছাই শেষে যখন রাজ্যপাল নিশ্চিত হন বিজয় থালাপতি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছেন, তখন তিনি শপথ গ্রহণের তারিখ ও সময় সম্পর্কে থালাপতিকে জিজ্ঞেস করা হয়। থালাপতি তখন সিদ্ধান্ত দেন রোববার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় চেন্নাইয়ের নেহরু স্টেডিয়ামে তিনি শপথ নেবেন।

সূত্র : এনডিটিভি

কেউ যেন পুলিশকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে : আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘এই বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচার যেন পুলিশ সদস্যদের দেশ ও জনগণের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে। স্বাধীনতার প্রথম প্রহরেই পুলিশের রক্তে রঞ্জিত এই মাটিতে দাঁড়িয়ে আসুন, আজ আমরা আবারো নতুন শপথে অঙ্গীকারবদ্ধ হই।’
আজ রোববার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
দেশের জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সক্ষমতা নিয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের ভূমিকার ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। আপনারা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধ্য ও সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে কাজ করবেন; এটাই আপনাদের কাছে সরকারের প্রত্যাশা।’
পুলিশ সদস্যদের নতুন শপথে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু স্মরণের মধ্য দিয়েই আপনাদের-আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যেসব শহীদ পুলিশ ভাইরা আত্মত্যাগ করেছিলেন, যে কোনো মূল্যে সেই স্বাধীনতা রক্ষা করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হচ্ছে জনগণের রায়ে গঠিত বর্তমান সরকার। বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য হামলা মামলার শিকার নির্যাতিত, নিপীড়িত ও অধিকারহারা মানুষ বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে শান্তি এবং নিরাপত্তা চায়।’
মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সকল পুলিশ সদস্যকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘এই সেই ঐতিহাসিক রাজারবাগ পুলিশ লাইন, যেখানে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে বর্বর হামলা চালিয়ে শত শত ঘুমন্ত পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছিল। আমি আজকের অনুষ্ঠানে প্রথমেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সকল পুলিশ সদস্যকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই নির্বাচন প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম। শুধু দেশেই নয়, জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমেও বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা ও সুনামের সাথে কাজ করে যাচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় আমাদের পুলিশ সদস্যরা পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জাতিসঙ্ঘ শান্তি মিশনে নারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকাও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। সুতরাং শুধু বিদেশেই নয়, দেশের জনগণের সঙ্গেও পুলিশের মানবিক আচরণ প্রত্যাশিত।’
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘একদিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে চট্টগ্রামে মেজর জিয়ার ‘উই রিভোল্ট’, অন্যদিকে ঢাকায় রাজারবাগ পুলিশের মরণপণ প্রতিরোধ; এরপর স্বাধীনতার লড়াই থেকে স্বাধীনতাকামী মানুষের পিছিয়ে থাকার আর কোনো সুযোগ ছিল না।’
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে এখনো কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রজন্ম থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্ম আমরা যারা ইতিহাস পড়ে কিংবা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা শুনে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জেনেছি তাদের মনে মুক্তিযুদ্ধের সময়কালীন ইতিহাস নিয়ে এখনো কিছু প্রশ্ন রয়েছে।’
১৯১ সালের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উত্তাল মার্চে যখন স্বাধীনতাকামী মানুষের মনে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছিল এবং তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার সৈন্য ঢাকায় আনা হচ্ছিল, তখন সকল পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে একসাথে জড়ো করে রাখার পেছনে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কী কৌশল বা যুক্তি ছিল, তা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণাকারীদের জন্য এখনও একটি গবেষণার বিষয় হতে পারে।’
বক্তব্যের শেষে প্যারেডে অংশ নেয়া পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। একইসাথে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন তিনি।
এর আগে সকালে ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

২৭ ডিসেম্বর পদত্যাগ করবেন অ্যাটর্নি জেনারে|

আগামী ২৭ ডিসেম্বর অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন মো. আসাদুজ্জামান।
আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) এই তথ্য জানান তিনি।
এর আগে, গত শনিবার (২১ ডিসেম্বর) আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকূপা) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। পদত্যাগের পরে তিনি নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।
গত মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) মো. আসাদুজ্জামানের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন শৈলকূপা উপজেলা বিএনপির নেতারা।
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হয়েছিলেন।
গত বছরের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান দেশের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি বিএনপির মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না আ.লীগ: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব

আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে না জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ‌‘আওয়ামী লীগের বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে। নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে রেজিস্ট্রেশন স্ক্র্যাপ করেছে, বাদ দিয়েছে’।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
প্রেস সচিব আরও বলেন, রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও উপেক্ষা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে পাঁচ মার্কিন আইনপ্রণেতা চিঠি দিয়েছেন; এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘এই চিঠি আমি অন্তত দেখিনি, আমি এই বিষয়ে জানি না, এওয়ার (অবগত) না।’

মতবিনিময় সভায় বক্তারা উজানে বাঁধ ও জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে মারাত্মক সংকটে তিস্তা নদী

রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে (পিআইবি) ‘সংকটে তিস্তা নদী: সমাধানের পথ কী?’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২ নভেম্বর, ২০২৫
রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে (পিআইবি) ‘সংকটে তিস্তা নদী: সমাধানের পথ কী?’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২ নভেম্বর, ২০২৫ছবি: আয়োজকদের সৌজন্যে

আন্তর্জাতিক নিয়ম না মেনে উজানে বাঁধ ও জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ফলে তিস্তা নদী মারাত্মক সংকটে পড়েছে। আর প্রস্তাবিত তিস্তা প্রকল্প নিয়েও কেউ খোলামেলা কথা বলতে চাইছেন না।

রোববার রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে (পিআইবি) ‘সংকটে তিস্তা নদী: সমাধানের পথ কী?’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ কথা বলেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন) যৌথভাবে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাপার সহসভাপতি অধ্যাপক মো. খালেকুজ্জমান। প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের সঙ্গে কোনো পানিবণ্টন চুক্তি না থাকায় এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম না মেনে উজানে বাঁধ ও জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ফলে তিস্তা নদী মারাত্মক সংকটে পড়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে আর বর্ষাকালে নিয়ন্ত্রণহীন পানিনির্গমনের ফলে বাংলাদেশ অংশে বন্যা ও ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে।

মতবিনিময় সভায় বিশেষজ্ঞরা তিস্তা সমস্যার সমাধানে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পৃক্ততা, আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ এবং প্রকল্পে স্থানীয় জনগণের মতামত গ্রহণের ওপর জোর দেন। তাঁরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা সম্পর্কে স্বচ্ছতা ও পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানান।

অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘সরকারের কাছে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কোনো তথ্য নেই। বিগত বছরগুলোতে উন্নয়নের নামে দেশের নদীগুলোকে সংকুচিত করা হয়েছে। আমরা আর সংকুচিত করার উন্নয়ন চাই না। নদীকে নদীর মতোই রাখতে হবে।’

আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যক্তিস্বার্থকে উপেক্ষা করে দেশের স্বার্থকে বড় করে দেখতে হবে। যেসব প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদি, সেসব প্রকল্প গ্রহণের আগে অবশ্যই জনগণের মতামত নিতে হবে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব সামর্থ্য অনুযায়ী প্রকল্প নেওয়া উচিত। নদীকে রক্ষা করতে হবে কিন্তু তাকে খালে পরিণত করে নয়। এই প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

বাপার প্রতিষ্ঠাতা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বাপা কখনো উন্নয়নবিরোধী নয়। আমরাও চাই দেশের উন্নয়ন হোক। কিন্তু সেই উন্নয়ন হতে হবে দেশের প্রাণপ্রকৃতি, পরিবেশ ও নদীকে ঠিক রেখে। তিস্তা প্রকল্প নিয়ে কেউ খোলামেলা কথা বলতে চাইছেন না। সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে সংবেদনশীল হওয়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।’

বাপার সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবিরের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, পরিবেশবিদ, গবেষক ও তিস্তাপাড়ের বাসিন্দারা অংশ নেন।